1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. ukbanglatv21@gmail.com : Kawsar Ahmed : Kawsar Ahmed
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি: দেশজুড়ে ভোগান্তি-বিক্ষোভ - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ০৯:১০ পূর্বাহ্ন

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি: দেশজুড়ে ভোগান্তি-বিক্ষোভ

  • প্রকাশিত :প্রকাশিত : শনিবার, ৬ আগস্ট, ২০২২
  • ২৮৬ 0 বার সংবাদি দেখেছে
নিজস্ব প্রতিবেদক // জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির খবরে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সারাদেশে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এরমধ্যে হঠাৎ করেই অনেক রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে যাত্রীরা।

ঢাকা

শনিবার সকালেই রাজধানীতে বাস চলাচল কম দেখা যায়। তবে কিছু বাস চললেও ভাড়া দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে চরম ভোগান্তিতে পরেছে সাধারণ মানুষ। আর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বেশি ভাড়া রাখছেন রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেলচালকেরা। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ৫০ থেকে ১০০ এমনকি দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া গুনে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

শনিবার সকাল থেকেই ঢাকার সব পেট্রোল পাম্প বন্ধ রয়েছে। আর তেলের অভাবে প্রায় ৭০ শতাংশ কম গণপরিবহন রাজধানীর সড়কে চলছে বলে জানিয়েছেন যাত্রী এবং চালকেরা।

এছাড়া সাভারের আশুলিয়ার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের চেষ্টা কালে তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার সকালে টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের আশুলিয়ার শিমুলতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক তিনজন হলেন- বিপ্লব (৩০), রাসেল (৩০) ও আলীরেজা (২৫)। তারা বিভিন্ন পরিবহনের চালক ও হেলপার বলে জানা গেছে।

শুধু রাজধানী নয়, অন্যান্য জেলা শহরেরও একই অবস্থা

চট্টগ্রাম

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর শনিবার সকাল থেকে চট্টগ্রামে গণপরিবহন চলাচল কমে গেছে। আনুষ্ঠানিক কোনো পরিবহন ধর্মঘটের ডাক না দিলেও বিভিন্ন স্থানে বাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছেন পরিবহনশ্রমিকেরা। এ কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

সকাল থেকে নগরের ইপিজেড এলাকা, টাইগারপাস, এ কে খান মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে যানবাহন চলাচলে বাধা দেয়ার অভিযোগ ওঠে। এ কারণে সড়কে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে যায়। অফিস ও কলকারখানাগামী মানুষকে বিপাকে পড়তে হয়েছে। কিছু কিছু গণপরিবহন চললেও ভাড়া স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গুনতে হয়েছে। ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে শ্রমিকদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয় বিভিন্ন স্থানে।

কুমিল্লা

দেশে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাড়া বেড়েছে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামগামী গণপরিবহনে। শনিবার সকালে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামগামী বাসে বাড়তি ভাড়া আদায় করতে দেখা গেছে।

গতকাল পর্যন্ত কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাওয়া তিশা প্লাটিনাম বাসের ভাড়া ছিলো ২৪০টাকা। কিন্তু আজ সকাল থেকে নেয়া হচ্ছে ২৯০ টাকা। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির খবরে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

বগুড়া

বগুড়ার বেশির ভাগ বাসমালিকেরা পূর্বঘোষণা ছাড়াই বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। অল্প কিছু বাস চালু থাকলেও তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। তবে এসব বাসে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

শনিবার সকাল থেকে চারমাথা আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল, শহরের হাড্ডিপট্টি বাস টার্মিনাল, ঠনঠনিয়া কোচ টার্মিনাল ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। স্বাভাবিক সময়ে এসব টার্মিনালে বাস ও যাত্রীদের ভিড় থাকলেও আজ সকাল থেকে টার্মিনালগুলো অনেকটাই ফাঁকা।

বাসমালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া থেকে দূরপাল্লা এবং অভ্যন্তরীণ রুটে ৮০০ বাস চলাচল করে। তবে আজ সকাল থেকে প্রায় সব রুটেই বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন মালিকেরা।

গোপালগঞ্জ

গোপালগঞ্জে ফিলিং স্টেশ‌নগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এতে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়। এসময় অধিক মুনাফার আশায় মুহূর্তেই তেল শূণ্য ঘোষণা করে ফিলিং স্টেশনগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন যানবাহন মালিকরা।

শুক্রবার রাতে শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনগুলো ঘুরে দেখা গেছে, রাত ১২ থেকে নতুন দাম কার্যকর হবার কথা থাকলেও দাম বৃদ্ধির ঘোষণার সাথে সাথে তেল কেনার জন্য ফিলিং স্টেশনগুলো ভীড় করতে থাকে বিভিন্ন যানবাহনের মালিকেরা। তেল না থাকায় অনেককেই পায়ে হেটে যানবাহন ঠেলে ফিলিং স্টেশনে আসতে দেখা গেছে।

রাঙ্গামাটি

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সকাল থেকে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ জেলার সব কয়টি অভ্যান্তরীণ সড়কের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম বাস মালিক সমিতি। সকাল থেকে আকস্মিক যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে পর্যটকসহ সব যাত্রী। একইসাথে বিপাকে পড়েছে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা।

পূর্ব ঘোষণা ছাড়া তেলের দাম বৃদ্ধির ঘোষণায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ।

চাঁদপুর

জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির ঘোষণা শুনেই চাঁদপুরে পেট্রল পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল ও জ্বালানি গাড়ির ভিড় শুরু হয়। শুক্রবার রাত ১১টার পর গণমাধ্যমে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাঁদপুরের সকল পাম্পে যানবাহন চালকরা আসতে শুরু করেন। এরপর রাত ১২টা পর্যন্ত চলে এই চাপ। তবে প্রতিটি পেট্রলপাম্প কর্তৃপক্ষ ১০০ টাকার বেশি জ্বালানি তেল দেননি। আবার অনেক পেট্রল পাম্প তেল শেষ বলে বন্ধ করে দেয়। এতে যানবাহন চালকরা ক্ষিপ্ত হয়ে অন্য পাম্পে চলে যায়।

হঠাৎ করে এমনভাবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ জনগণ। অন্যদিকে রাত ১২টার পর নতুন দরে পাম্পগুলো থেকে বিভিন্ন যানবাহনকে জ্বালানি তেল নিতে দেখা গেছে।

নোয়াখালী

রাত ১২ টা থেকে ডিজেল, পেট্রল ও অক্টেনের দাম বৃদ্ধি কার্যকর হওয়ার খবর পেয়ে কয়েকটি পাম্প ছাড়া জালানি তেল বিক্রি বন্ধ করে দেয় নোয়াখালীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন।

এ সময় ভারি যানবাহনসহ বিভিন্ন বাইকাররা শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে তেল না পেয়ে ভোগান্তির শিকার হতে থাকে। পরে মেসার্স এ এস এম জহিরুল ইসলাম ফিলিং স্টেশনে সামনে জড়ো হলে তারা তেল দেওয়া শুরু করে। কিন্তু পরিমাণে তেল কম বিক্রি করছে। এসময় সড়কের দুপাশে যানজট লেগে যায়। রাত ১১টা ৩০ এর দিকে পুলিশের হস্তক্ষেপে তেল বিক্রিতে বাধ্য হয় কয়েকটি পাম্প কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে বেগমগঞ্জ ও সদর উপজেলার কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ছাড়া তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার খবর শুনে আগে থেকে বন্ধ করে দেয় ফিলিং স্টেশনগুলো।

পটুয়াখালী

জ্বালানী তেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির খবরে রাতে পটুয়াখালীতে পেট্রোল পাম্প গুলোতে উপচে পড়া ভিড় জমে মোটরবাইকের। তেল বিক্রিতে নানা অজুহাত টালবাহানা দেখিয়ে গ্রাহকদের বিলম্ব করায় পাম্পের বিক্রয় কর্মীরা। এতে হৈহুল্লোরে অব্যবস্থাপনা সৃষ্টি হয় তেল বিতরণে। পুলিশি হস্তক্ষেপে কোন কোন পাম্পের কৃত্রিম সংকট নিরসন হলেও রাত ১২টার আগেই বেশ কিছু পাম্প ও পেট্রোল দোকান বন্ধ করে মালিক-কর্মচারীরা গা ঢাকা দেয়ায় বাইক ও যানবাহন চালকরা ভোগান্তিতে পড়ে।

সিরাজগঞ্জ

সারা দেশের ন্যায় সিরাজগঞ্জেও তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে পাম্পে তেল নিতে আসা গ্রাহকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়। সরকার ঘোষিত তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সিরাজগঞ্জের পাম্পগুলোতে রাতে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভীড় থাকলেও সকালে তা পুরোটাই স্বাভাবিক রয়েছে।

সরকার ঘোষিত তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে সিরাজগঞ্জের পাম্পগুলোতে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা যায়। ঘোষণার পরপরই পাম্পগুলো তেল বিক্রি বন্ধ করে দিলে পাম্পে তেল নিতে আসা গ্রাহকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এসময় মিরপুর ফিলিং স্টেশন পাম্প ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ