1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. ukbanglatv21@gmail.com : Kawsar Ahmed : Kawsar Ahmed
নড়াইলের কালনা সেতু প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দিনক্ষণ ঘোষণার অপেক্ষায় দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলবাসী  - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরনাম :
পদ্মা নদীতে গোসলে নেমে ৩ কিশোরের মৃত্যু ২৪ বছর কারাভোগ শেষে ভ্যান নিয়ে বাড়ি ফিরলেন ওলিউল নলছিটিতে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে বরগুনায় ভোটারদের মধ্যে টাকা দেওয়া বন্ধে মাইকিং বাউফলে হিটস্ট্রোকে পুলিশ সদস্যের মৃত্যু সুনামগঞ্জে পৃথক ঘটনায় ২জনের মৃত্যু সুনামগঞ্জ সীমান্তে চোরাচালান বাণিজ্য জমজমাট, ইয়াবাসহ ২জন গ্রেফতার নড়াইল জেলা পুলিশের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এসপি মেহেদী হাসান নড়াইল জেলা পুলিশ হাসপাতালের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজের নাম ফলক উদ্বোধন করেন এসপি মেহেদী হাসান লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টা, গ্রাম পুলিশ আটক 

নড়াইলের কালনা সেতু প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দিনক্ষণ ঘোষণার অপেক্ষায় দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলবাসী 

  • প্রকাশিত :প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট, ২০২২
  • ১৫৮ 0 বার সংবাদি দেখেছে
উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি // প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে দিনক্ষণ ঘোষণার অপেক্ষায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলবাসী
৩০ আগস্টের মধ্যে যানবাহন চলাচলের জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত করা হচ্ছে সেতুটি নড়াইলের
কালনা সেতু চালু হলে ভারতের সঙ্গে ঢাকার সরাসারি সড়ক যোগাযোগ চালু হবে ঢাকার সঙ্গে দুরত্ব কমবে ১০০ থেকে ২০০ কিলোমিটার
দীর্ঘ দিন পর আরেকটি অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়, জানান, স্বপ্নের ‘পদ্মা সেতু’র পর ‘কালনা সেতু’র দ্বারও উন্মোচন হতে যাচ্ছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলবাসীর আরেকটি স্বপ্নপূরণ হচ্ছে। এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় দেশের প্রথম ছয় লেনের কালনা সেতু। সেতুর মূল কাজ শেষ হওয়ার পর এখন ছোটখাটো কিছু কাজ চলছে। লাইটিংসহ চলছে দৃষ্টিনন্দন কাজ। আগামি ৩০ আগস্টের মধ্যে যানবাহন চলাচলের জন্য সেতু সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত করা হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তারিখ ঘোষণা হলেই চূড়ান্ত হবে উদ্বোধনের দিনক্ষণ। সেই অপেক্ষায় আছেন সেতু কর্তৃপক্ষসহ গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, নড়াইল, যশোর, বেনাপোল, সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলার কোটি কোটি মানুষ। মুখিয়ে আছেন যাত্রীবাহী বাসসহ অন্যান্য যানবাহন সংশ্লিষ্টরা। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইম্প্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে কালনা সেতু নির্মিত হয়েছে।
এদিকে কালনা সেতু চালু না হওয়ায় নড়াইল, যশোর, বেনাপোল, নোয়াপাড়া শিল্পনগর, সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরসহ আশেপাশের কয়েকটি জেলার লোকজন পদ্মা সেতুর সরাসরি সুফলও পাচ্ছেন না। কারণ, কালনাঘাটে এসে ফেরি পারাপারের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে সব ধরণের যানবাহনকে। তাই এ অঞ্চলের সবাই তাকিয়ে আছেন কালনা সেতু উদ্বোধনের অপেক্ষায়।

সেতু কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয়রা জানান, এপারে নড়াইলের কালনাঘাট। ওপারে গোপালগঞ্জের শংকরপাশা। মাঝ দিয়ে প্রবাহিত মধুমতি নদী। এ নদীর ওপরই নির্মিত হয়েছে দেশের প্রথম ছয় লেনের কালনা সেতু। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মতি পেলে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে যানবাহন চালাচলের জন্য উন্মুক্ত হবে কালনা সেতু।

কালনা সেতুর প্রকল্প ব্যবস্থাপক এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) নড়াইলের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান বলেন, কালনা দেশের প্রথম ছয় লেনের সেতু। নেলসন লোস আর্চ টাইপের (ধনুকের মতো বাঁকা) সেতু এটি। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬৯০ মিটার এবং প্রস্থ ২৭ দশমিক ১ মিটার। উভয় পাশে ছয় লেনের সংযোগ সড়ক প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার। সেতু নির্মাণে মোট ব্যয় প্রায় ৯৬০ কোটি টাকা। এশিয়ান হাইওয়ের ওপর অবস্থিত এটি। সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সিলেটের তামাবিল হয়ে ঢাকা, ভাঙ্গা, নড়াইল, যশোর, বেনাপোল, কোলকাতা পর্যন্ত সরাসরি ভূমিকা রাখবে। তবে এতোদিন কালনা পয়েন্টে মধুমতি নদী ধারা বিছিন্ন ছিল। সেতু নির্মাণের ফলে সেই বিছিন্নতা আর রইল না। কালনা সেতু চালু হলে শুধু জাতীয় ক্ষেত্রেই নয়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। ভারত, কোলকাতা, আসামসহ দেশের মধ্যে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর, বেনাপোল ও নোয়াপাড়া নদীবন্দরের মধ্যে যোগাযোগের মাইলফলক রচিত হবে। নড়াইলের লোহাগড়ায় ইপিজেড (রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল) চালুসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

কালনাঘাটে স্থাপিত নামফলক থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘কালনা সেতু’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কালনাঘাট থেকে ঢাকার দুরত্ব মাত্র ১০৮ কিলোমিটার। ফলে ঢাকার সঙ্গে নড়াইল, বেনাপোল, যশোর, খুলনাসহ আশেপাশের সড়ক যোগাযোগ কোথাও ১০০ কিলোমিটার, কোথাও আবার ২০০ কিলোমিটার কমে যাবে। তবে ঢাকা থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ‘এক্সপ্রেস ওয়ে’ নির্মাণ করা হলেও ভাঙ্গা থেকে বেনাপোল পর্যন্ত এ ধরণের সড়ক নির্মিত হয়নি। ফলে ‘এক্সপ্রেস ওয়ে’র সুফল পাচ্ছে না দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বড় একটি অংশ। ভাঙ্গা থেকে নড়াইল-যশোর-বেনাপোল পর্যন্ত বর্তমানে দুই লেন সড়ক চালু আছে। এই অংশে ‘এক্সপ্রেস ওয়ে’ সড়ক নির্মাণের বিষয়টি প্রকল্পাধীন বলে জানিয়েছেন কালনা সেতুর প্রকল্প ব্যবস্থাপক আশরাফুজ্জামান। তিনি বলেন, কালনা সেতু চালু হলে যানবাহনের চাপ বেড়ে যাবে। তাই আপাতত যশোরের মনিহার সিনেমা হল চত্বর থেকে নড়াইলের কালনাঘাট পর্যন্ত ৫২ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে সড়কটি ১৮ফুট প্রশস্ত থাকলেও তা বাড়িয়ে ২৪ ফুট করা হবে। দরপত্রের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দরপত্র অনুমোদন হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে ওয়ার্কঅডার দিব।  নড়াইল অংশে প্রায় ৪৭ কোটি এবং যশোর অংশে ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক প্রশস্তকরণ করা হবে। এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে। এ লক্ষ্যে সড়কের দুই পাশে গাছকাটার কাজ শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী লোহাগড়ার সন্তান অ্যাডভোকেট ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, পদ্মা সেতুর সঙ্গে কালনা সেতুর অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। এ দু’টি সেতু (পদ্মা ও কালনা) রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে। ফেরিঘাটের অপেক্ষা আর যন্ত্রণা সহ্য করতে হবে না। যাত্রীসাধারণের পাশাপাশি কৃষিপণ্য বেচাকেনার ক্ষেত্রেও সহজ হবে। পাশাপাশি পদ্মা ও কালনাঘাট এলাকায় শিল্প-কলকারখানা গড়ে উঠবে। ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

বাসসহ অন্যান্য যানবাহন চালকেরা জানান, ফেরিঘাট মানেই ভোগান্তি। তাদের আশা কালনা সেতু চালু হলে সেই কষ্ট আর থাকবে না।
‘নড়াইল জেলার অতীত ও বর্তমান’ গ্রন্থের লেখক সিনিয়র সাংবাদিক আকরামুজ্জামান মিলু বলেন, কালনা সেতুর জন্য নড়াইল, লোহাগড়া, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী, যশোর ও বেনাপোলের সড়ক যোগাযোগ, কৃষিপণ্য, শিল্পকলকারখানার ব্যাপক গুরুত্ব বেড়ে গেছে। অনেক উদ্যোক্তা এখনই কালনাঘাট এলাকায় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছেন। এ লক্ষ্যে অনেকে জমিও কিনেছেন।
লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সিকদার আব্দুল হান্নান রুনু বলেন, সরকারের উন্নয়ন ধারাবাহিকতার বড় সাফল্য পদ্মা সেতু। সেই সঙ্গে কালনা সেতুও। সড়ক পথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এ অঞ্চলের মানুষের নদ-নদীর আর কোনো প্রতিবন্ধকতা রইল না। ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখবে কালনা সেতু। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই। কালনা সেতু উদ্বোধনের ক্ষণগণনার অপেক্ষায় আছি আমরা।

যশোর জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের খুলনা বিভাগীয় আঞ্চলিক কমিটির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা মিঠু বলেন, কালনা সেতু চালু হলে যশোর, বেনাপোল, সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, মাগুরাসহ পাশের জেলাগুলোর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বদলে যাবে। খুব সহজেই রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যাতায়াত করা যাবে। আমরা কালনা সেতু উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছি।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ