1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. ukbanglatv21@gmail.com : Kawsar Ahmed : Kawsar Ahmed
আশুলিয়ায় শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ০২:২৯ অপরাহ্ন

আশুলিয়ায় শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

  • প্রকাশিত :প্রকাশিত : বুধবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৩
  • ৪৫ 0 বার সংবাদি দেখেছে

খোকন হাওলাদার, আশুলিয়া(ঢাকা)প্রতিনিধি // সাভারের আশুলিয়ায় পোশাক শ্রমিকের পাওনা টাকা পরিশোধ না করে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। সহায়তার জন্য শ্রমিক নেতাদের কাছে গেলে কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওনা ৩৫ হাজার টাকা আদায় করে। তবে ওই টাকা থেকে ১৫ হাজার শ্রমিক নেতারা আত্মসাৎ করেছেন এমন অভিযোগ উঠেছে।

গত সোমবার আশুলিয়া থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী পোশাক শ্রমিক মোসা. মাহিয়া আর্নিকা। তিনি আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকার ইথিক্যাল গার্মেন্টসের সুইং অপারেটর পদে কাজ করতেন। গত ১৪ জুন তাঁকে কারখানা থেকে অব্যাহতি দেয় কর্তৃপক্ষ।

থানায় অভিযোগ দেওয়া শ্রমিক নেতারা হলেন: বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ইসমাইল হোসেন ঠান্ডু ও জাগো বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মানিক সরকার।

থানায় লিখিত অভিযোগ থেকে জানা গেছে, কারখানা থেকে ১ লাখ ৬ হাজার ৪০০ টাকা পাওনা পরিশোধ না করে মাহিয়াকে বের করে দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। পরে ফেডারেশনের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁরা শ্রমিককে নিয়ে কারখানায় যায়। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ ও নেতাদের সমঝোতায় ৩৫ হাজার টাকা পরিশোধ করে। তবে মাহিয়াকে শুধু ২০ হাজার টাকা দিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে কারখানা থেকে বের করে দেয়।

শ্রমিক মাহিয়া বলেন, ‘আমি হিসাব করে দেখেছি ১ লাখ ৬ হাজার ৪০০ টাকা পাব। কিন্তু শ্রমিক নেতা ঠান্ডু আমাকে প্রথমে হিসাব দেখিয়েছিল আমি ৯৭ হাজার টাকা পাব। পরে আমাকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে বিদায় করার চেষ্টা করে। আমার সন্দেহ হলে পরে আমি থানায় যাই। পুলিশ এ বিষয় নিয়ে ঠান্ডু ভাইকে কল দিলে তিনি লালন নামে এক শ্রমিক নেতার মাধ্যমে আমার কাছে ১৫ হাজার টাকা ফেরত পাঠায়। আমি এখনো আরও টাকা পাব।

পাওনা টাকা পরিশোধ না করে চাকরিচ্যুত করার বিষয়ে ইথিক্যাল গার্মেন্টসের প্রশাসনিক (মানবসম্পদ) কর্মকর্তা মো. বিল্লাল বলেন, ‘ওই শ্রমিকের আমাদের কাছে মাত্র ১ হাজার ২০০ টাকা পাওনা ছিল। শ্রমিক ফেডারেশনের চাপে আমরা ৩৫ হাজার টাকা দিয়েছি। ঠান্ডু ভাই এসে আমাদের প্রেশারে ফেলেছে। এইটা ওদের একটা বিশাল ব্যবসা আকারে হয়ে গেছে আরকি। শ্রমিক ফেডারেশনকে সরকার লাইসেন্স দিয়ে আমাদের গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা করা কঠিন হয়ে গেছে।’

১ হাজার ২০০ টাকা পাওনা হলে কেন ৩৫ হাজার টাকা দিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘না দিলে আমাদের আরএসসিতে (আরএমজি সাসটেইনেবিলিটি কাউন্সিল) দিয়ে দেবে, এই করবে, সেই করবে। আরএসসিতে যদি ক্লেইম করে আমাদের ব্যবসা বন্ধ। তাই চাপে পড়ে আমরা বাধ্য হয়েছি।

অভিযোগের বিষয়ে শ্রমিক নেতা ইসমাইল হোসেন ঠান্ডু বলেন, ‘ওই শ্রমিকের অভিযোগ মানিকের কাছে ছিল। সমাধান করতে পারেনি দেখে আমার কাছে আসছে। পরে আমি মীমাংসা করে দিয়েছি। মানিকই ১৫ হাজার টাকা রেখে দিয়েছিল। পরে আবার ফেরত দিয়েছে।’

মানিক সরকার বলেন, ‘আমার কাছেই অভিযোগ নিয়ে আসছিল মেয়েটি। কিন্তু এইটা ডিল করছে ঠান্ডু ভাই। আমার কাছে ছবি তোলা আছে টাকা মালিকপক্ষ দিয়েছে শ্রমিককে। সেখানে ঠান্ডু ভাই উপস্থিত ছিল। আমি ব্যস্ত থাকায় ওই দিন যেতে পারিনি। ১৫ হাজার টাকা ঠান্ডু ভাই নিয়ে আসছিল। পরে সোমবার টাকাটা ফেরতও দেওয়া হয়েছে। ঝামেলা শেষ হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘অন্য শ্রমিক সংগঠনের নেতা মানিকের ঘটনা এটি। আমাদের একজনও ছিল বলে জানতে পেরেছি। আমাদের সংগঠনের প্যাড ব্যবহার করে টাকা লেনদেন হয়নি। আমি তদন্ত করে দেখব। আমাদের সংগঠনের ওই নেতার যদি দোষ খুঁজে পাওয়া যায় আমরা সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেব।

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বিপুল হোসেন বলেন, ‘শ্রমিকের অভিযোগ পেয়ে আমি কারখানায় গিয়েছি। সেখান থেকে জানানো হয়েছে কর্তৃপক্ষ ৩৫ হাজার টাকা দিয়েছে। পরে অভিযুক্ত ঠান্ডুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি স্বীকার করেন। ভুক্তভোগীকে বাকি টাকা ফেরত দিয়েছে শ্রমিক নেতা ঠান্ডু।

টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, ‘শ্রমিকদের কাছ থেকে টাকা নিয়েই তো শ্রমিক সংগঠন চলে। এটাই সংগঠনের সাংবিধানিক নিয়ম। কিন্তু শ্রমিককে ভুল বুঝিয়ে, দুই নাম্বারি করে তো টাকা আদায় করার সুযোগ নেই। এটা অন্যায়। এখন প্রচুর শ্রমিক সংগঠন। সেখানে প্রচুর আগাছাও তৈরি হয়েছে। আগাছা নির্মূল করার দায়িত্ব আমাদেরই। অনেক সময় কোনো অপরাধ করলে নেতাকে হয়তো বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু তখন তারা আবার নতুন সংগঠন তৈরি করে। এভাবে তো চলতে পারে না।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ