1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. ukbanglatv21@gmail.com : Kawsar Ahmed : Kawsar Ahmed
কারাগারে মিন্নির দুর্বিষহ জীবন - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন

কারাগারে মিন্নির দুর্বিষহ জীবন

  • প্রকাশিত :প্রকাশিত : শনিবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৩
  • ৪৪ 0 বার সংবাদি দেখেছে
নিজস্ব প্রতিবেদক // বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডের অন্যতম ‘খলনায়িকা’ হিসেবে পরিচিত স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি কারাগারের কনডেম সেলে দুর্বিষহ জীবন পার করছেন বলে জানা গেছে।

স্বামী রিফাতকে হত্যায় পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ানোর দায়ে ফাঁসির দণ্ড প্রাপ্ত আলোচিত মিন্নির এখন প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে মহাশঙ্কায়। কেননা মাথার ওপরে ঝুলছে ফাঁসির দড়ি।

আপিলের রায়ের ওপরে নির্ভর করছে জীবন-মরণ। এর মাঝেই নানা রোগও জেঁকে ধরেছে মিন্নিকে। সব মিলিয়ে এক দুর্বিষহ জীবন পার করছেন তিনি। মিন্নির স্বজন ও কারা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য।

কাশিমপুর মহিলা কারাগারের কনডেম সেলে অবস্থানরত মেয়ে মিন্নির দুর্বিষহ জীবনের বর্ণনা দিতে গিয়ে বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন-জ্বর, মাথা ব্যথা, প্রেসার, শারীরিক দুর্বলতাসহ বিভিন্ন অসুস্থতার মধ্যে চরম কষ্টে দিন পার করছেন আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি। খাওয়া-দাওয়াও করতে পারেন না ঠিকমতো। সেলের মধ্যে জায়গা না থাকায় হাঁটাচলা করতে পারেন না।

তিনি বলেন, ‘আল্লাহ কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছে, কীভাবে যে এই পরীক্ষা থেকে মুক্তি পাবে জানি না।’ ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনায় নৃশংসভাবে খুন হন রিফাত শরীফ।

যে হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে আলোচিত হয় নিহতের স্ত্রী মিন্নি ও ‘নয়ন বন্ড’-এর নাম। চাঞ্চল্যকর এ মামলার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৮ মে বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি হাইকোর্টে ফের জামিন আবেদন করেন।

বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আবেদন করা হয়েছে। এর আগে গত ১১ জানুয়ারি বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ মিন্নির জামিন আবেদন শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে নিহত রিফাত শরীফের বাবা মো. দুলাল শরীফ বলেন, মামলার আসামি মিন্নির পক্ষে আপিল করা হয়েছে। কবে এর শেষ হবে তা তার জানা নেই। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন হবে বলে তিনি প্রত্যাশা করছেন।

তিনি আরও বলেন, একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে মা ডেইজি আক্তার মানসিকভাবে এখনও সুস্থ হতে পারেননি। প্রায় সময়ই তাকে ডাক্তার দেখাতে হয়।

আর মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্না বর্তমানে অসুস্থ থাকায় মামলার বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। তা ছাড়া এ ধরনের মামলা ৪-৫ বছরের আগে আমলেই নেন না হাইকোর্ট।

গত ৬ জুলাই সর্বশেষ মিন্নির সঙ্গে বাবা মোজাম্মেল কিশোরের সাক্ষাৎ হয়। মেয়ের শারীরিক অবস্থাসহ সার্বিক পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, জেলের জীবনটাই তো খারাপ।

নিম্নমানের খাওয়া-দাওয়া। বাইরে থেকে খাবার দেওয়ার কোনো সিস্টেম নেই। তা ছাড়া কারাগারের ক্যান্টিন থেকে ভালো খাবার নিতে গেলে কয়েকগুণ বেশি টাকা দিয়ে নিতে হয়।

যা আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। মাসে একবার দেখা করার সুযোগ থাকলেও সবসময় দেখা করতে পারেন না। দেখা করতে গেলেও ঠিকমতো কথা বলা যায় না, সিকিউরিটি দাঁড়িয়ে থাকে। নানা রকম বাধ্যবাধকতা আছে। একজনের বেশি দেখা করা যায় না।

তিনি বলেন, মিন্নির পায়ের জুতা নষ্ট হয়ে গেছে। একজোড়া জুতা দেওয়ার চেষ্টা করেও দিতে পারিনি। সেল তো একটা মরণকূপ। ছোট একটু জায়গার মধ্যে টয়লেট, থাকা-খাওয়া সবকিছু করতে হয়। সবসময় তালাবদ্ধ অবস্থায় থাকে।

চার বছর আগে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে কুপিয়ে রিফাতকে হত্যার পরই এ ঘটনায় জড়িত হিসেবে নাম আসে বরগুনার বখাটে কিশোর গ্যাং লিডার নয়ন ওরফে ‘নয়ন বন্ড’-এর।

খুনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ‘নয়ন বন্ড’ এক আলোচিত নাম হয়ে ওঠে। অবশ্য রিফাত হত্যার এক সপ্তাহের মাথায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন প্রধান আসামি নয়ন বন্ড।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় সাক্ষী ছিলেন নিহত রিফাতের স্ত্রী মিন্নি। যে কি না খুনিদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতের সময় স্বামীকে বাঁচানোর প্রচেষ্টাও করছিলেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়।

অথচ তদন্তের কয়েক দিনের মাথায় মামলায় নাটকীয় এক মোড় নেয়। সবাইকে হতবাক করে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়ে দেন, স্বামী রিফাতকে হত্যায় নেপথ্যে অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী ছিলেন স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি!

ঘটনার প্রেক্ষাপট : ২০১৯ সালের ২৬ জুন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রী মিন্নিকে বাইকযোগে বরগুনা সরকারি কলেজ রোডের ক্যালিক্স একাডেমির সামনে নিয়ে যান রিফাত শরীফ।

এ সময় আগে থেকেই পরিকল্পিতভাবে অবস্থান করা নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীসহ আলোচিত গ্যাং ‘বন্ড গ্রুপের’ সদস্যরা স্ত্রী মিন্নির সামনে রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।

আহত রিফাতকে প্রথমে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় পরে বরিশাল শেরে-ই- বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিফাত মারা যান।

এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ডকে প্রধান আসামি করে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-ছয়জনের বিরুদ্ধে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন।

এ মামলায় প্রথমে মিন্নি ছিলেন প্রধান সাক্ষী। পরে পুরো চিত্র পাল্টে যায়, যখন মিন্নির নাম আসে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের মূল খলনায়িকা হিসেবে।

আর ঘটনার কয়েক দিন পরই (২ জুলাই ২০১৯) ভোরে বরগুনা সদর উপজেলার পায়রা নদীর তীরবর্তী বুড়িরচর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ প্রধান আসামি নয়ন বন্ড (২৫) নিহত হন।

মিন্নির নাম আসে যেভাবে : হত্যাকাণ্ডের সময় স্বামী রিফাত শরীফকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে থাকা মিন্নির তৎপরতার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

মিন্নির প্রচেষ্টা ও সাহসিকতাকে সবাই প্রশংসা করতে থাকেন। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের ২০ দিন পর মিন্নিকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ লাইনে নিয়ে আসে।

এরপরই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে থাকে। পরে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ওই রাতেই গ্রেফতার দেখায় পুলিশ। দেশজুড়ে এবার স্বামী হত্যায় মিন্নির জড়িত থাকার খবর আলোচিত হয়।

নয়ন বন্ডের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে স্বামী রিফাত শরীফকে হত্যার নীলনকশা করা হয়েছিল বলে তদন্তে প্রকাশ হয়। পরে ওই বছরের ২৯ আগস্ট মিন্নিকে জামিন দেন হাইকোর্ট।

পরে ১ সেপ্টেম্বর আসামিদের প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক দুটি ভাগে বিভক্ত করে ২৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জন ছিল।

মামলার রায় ঘোষণা : ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। পরে সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তিতর্ক শেষে ৩০ সেপ্টেম্বর রায়ের মাধ্যমে বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান মিন্নিসহ ৬ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।

রায়ে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির মধ্যে ৬ জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। পাশাপাশি ৬ আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। বাকি ৪ জনকে খালাস দেওয়া হয়।

অন্যদিকে বিচার শেষে ২০২০ সালের ২৭ অক্টোবর অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জনের বিষয়ে রায় ঘোষণা করেন বরগুনা জেলা নারী ও শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান।

রায়ে ছয়জনকে ১০ বছরের কারাদ-, চারজনকে পাঁচ বছর এবং একজনকে তিন বছরের কারাদ- দেওয়া হয়। বাকি তিনজনকে খালাস প্রদান করে আদালত।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ