1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. ukbanglatv21@gmail.com : Kawsar Ahmed : Kawsar Ahmed
বরিশালের বেশিরভাগ আসনে নৌকা তীব্র লড়াইয়ের মুখে - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১০:২০ অপরাহ্ন

বরিশালের বেশিরভাগ আসনে নৌকা তীব্র লড়াইয়ের মুখে

  • প্রকাশিত :প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৩
  • ২৮ 0 বার সংবাদি দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক // আওয়ামী লীগের সভাপতির এক ঘোষণায় সব পালটে গেছে। দলীয় প্রতীক নৌকার বিরুদ্ধে ভোটের মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিতরা। সত্যিকার অর্থেই তারা নৌকার প্রার্থীর জন্য হুমকিস্বরূপ। তাদের কাছে নৌকা শেষ পর্যন্ত পরাজিতও হতে পারে। এমন পরিস্থিতি বরিশালের প্রায় সবকটি আসনে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনায় থাকা নেতাদের মধ্যে যেমন আছেন সাবেক মন্ত্রী ও এমপি, তেমনি আছেন ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থানে থাকা স্থানীয় পর্যায়ের প্রভাবশালীরা। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া দুয়েকজন এমপির নামও শোনা যাচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে। তাই নৌকা পেলেই যে খুব সহজে জেতা যাবে তা নয়। এ আঁচ এরই মধ্যে মিলতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কাও করছেন অনেকে। নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ঘিরে দলে বড় ধরনের বিভক্তি দেখা দেবে-এমনটাও বলছেন তারা।

নৌকার মনোনয়নপ্রাপ্তদের তালিকা থেকে মন্ত্রী-এমপিসহ প্রভাবশালী অনেক নেতা বাদ পড়েন। এ নিয়ে বঞ্চিতদের মধ্যে যতটা হতাশা-দুঃখ থাকার কথা তা এবার অনুপস্থিত। এর কারণ দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ঘোষণা। মনোনয়নপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণার দিন সকালে ৩ হাজারের বেশি দলীয় নেতার সঙ্গে তিনি বৈঠক করেন।

সেখানে দলের যে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারবে বলে তিনি ঘোষণা দেন। এ ঘোষণায় নির্বাচনের চিত্র পালটে গেছে। মনোনয়ন না পাওয়া অনেকে হচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। বিএনপি যেহেতু নেই তাই বিষয়টিকে বড় ধরনের সুযোগ মনে করছেন তারা। এদিকে লড়াইয়ের আশঙ্কায় শঙ্কিত নৌকার অনেক প্রার্থী। তবে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে খুশি সাধারণ মানুষ। একপেশে না হয়ে ভোটযুদ্ধ আর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে সবার কদর বাড়বে।

বরিশালের অধিকাংশ নির্বাচনি এলাকা থেকে নৌকার বিরুদ্ধে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলেছে। এসব আসনে প্রার্থী হবেন বঞ্চিতরা। এ তালিকায় মনোনয়ন না পাওয়া বর্তমান দুই এমপিসহ সাবেক কয়েকজন মন্ত্রী ও এমপি আছেন। এবার বরিশাল-৩ আসনের বর্তমান এমপি পংকজ দেবনাথ দলীয় মনোনয়ন পাননি।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে তার। পংকজ বলেন, নৌকার বিরুদ্ধে নামার ইচ্ছা বা মানসিকতা ছিল না। দুদিন ধরে যা ঘটছে তাতে নির্বাচন করা ছাড়া উপায় দেখছি না। এলাকায় আমার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, বাড়ি ভাঙচুর চলছে। এ অবস্থায় নির্বাচন না করলে তাদের রক্ষা করতে পারব না। প্রায় একই বক্তব্য মিলেছে বরগুনা-২ আসনের মনোনয়নবঞ্চিত এমপি শওকত হাচানুর রহমান রিমনের ক্ষেত্রে।

সরাসরি কথা বলা সম্ভব না হলেও তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা গৌতম রায় বলেন, মনোনয়ন না পাওয়ার পর থেকে হুমকি-ধমকির মুখে আছেন এমপির (রিমন) কর্মী-সমর্থকরা। নির্বাচন করার জন্য দলীয় সমর্থক ভোটারদের চাপও আছে। এ কারণে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

দলীয় মনোনয়ন না পাওয়া পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক এমপি জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি একেএমএ আউয়াল বলেন, নেতাকর্মী আর সাধারণ ভোটারদের চাওয়া উপেক্ষা করতে পারছি না। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি প্রার্থী হওয়ার। পিরোজপুর-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করবেন সাবেক জেলা চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহারাজ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে তিনি যে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তাতে কেবল পিরোজপুর-২ নয়, সারা দেশের মানুষ খুশি। এবার প্রমাণ হবে-কেউ এলো বা না এলো তাতে কিছু আসে যায় না।

সোমবার হেলিকপ্টারযোগে নির্বাচনি এলাকায় আসেন পটুয়াখালী-৪ আসনে দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত সাবেক প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান তালুকদার। মনোনয়ন না পেলেও তিনি নির্বাচন করবেন শোনা যাচ্ছিল আগে থেকেই। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলার আসামি ও দলবিরোধী বক্তব্য দিয়ে বহিষ্কার তালিকায় থাকা মাহবুব বলেন, নির্বাচন করব-না কি করব না তা সময় বলে দেবে। এলাকায় এসেছি সমর্থকদের সান্ত্বনা দিতে।

বরিশাল-৩ আসনে মনোনয়ন না পাওয়া বিভাগ উন্নয়ন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান বলেন, প্রার্থিতা উন্মুক্ত করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের যে সুযোগ দিয়েছেন, তা হারানোর প্রশ্নই ওঠে না। বরগুনা-১ আসনে মনোনয়নবঞ্চিত দলের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য মশিউর রহমান শিহাব বলেন, মনোনয়ন পাওয়া না পাওয়ার নেপথ্যে অনেক রকম খেলা হয়।

আসল হলো, ভোটের মাঠে জনপ্রিয়তা যাচাই। সুযোগটি করে দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। ঝালকাঠি-১ আসনে মনোনয়নবঞ্চিত কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য মনিরুজ্জামান মনির বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সুযোগের সম্মান রাখার চেষ্টা করব। এবার প্রমাণ হবে নেতাকর্মী আর সাধারণ ভোটাররা কি চায়।

বরিশাল-৫ আসনে মনোনয়নবঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব উদ্দিন আহম্মেদ বীরবিক্রম বলেন, সুযোগটা কিভাবে ব্যবহার করা যায় তাই নিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে বসব। এরপর জানাব। একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়ে কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন রিপন বলেন, সময়ই বলে দেবে সাধারণ মানুষের চাওয়া কি ছিল।

একইভাবে ভোলা-১ আসনে ঢাকা মহানগর (উত্তর) আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান হিরন, পটুয়াখালী-১ আসনে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সুলতান আহম্মেদ মৃধা, বরগুনা-১ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু, পটুয়াখালী-৩ আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী মরহুম আ খ ম জাহাঙ্গীরের ছেলে জাওয়াদ সুজনের নাম শোনা যাচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে। যদিও তারা সরাসরি তা স্বীকার করেননি।

আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য বলরাম পোদ্দার বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন। নৌকার প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক কথা বলতেও নিষেধ করেছেন তিনি। এটা থেকেই তো পরিষ্কার নৌকার বিরুদ্ধে যাওয়া যাবে না।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন এমপি বলেন, রাজনীতির মাঠে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার দল আওয়ামী লীগ। নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করার একটি কৌশল হলো স্বতন্ত্র প্রার্থী ইস্যু। এটিকে সরলিকরণ করার সুযোগ নেই। ভোটের মাঠের যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তও আসবে নেত্রীর কাছ থেকে। একাধিক প্রার্থী হলেও সংঘাত নিরসনে কি করা হবে তা সময়ই বলে দেবে।সূত্র: যুগান্তর

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ