1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. ukbanglatv21@gmail.com : Kawsar Ahmed : Kawsar Ahmed
বরগুনায় লবণসহিষ্ণু গম চাষে সাফল্য - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ০১:১৮ অপরাহ্ন

বরগুনায় লবণসহিষ্ণু গম চাষে সাফল্য

  • প্রকাশিত :প্রকাশিত : সোমবার, ৪ মার্চ, ২০২৪
  • ২৮ 0 বার সংবাদি দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক // বরগুনার তালতলী উপজেলার নলবুনিয়া গ্রামে পতিত জমিতে লবণসহিষ্ণু জাতের গম উৎপাদন করে সাফল্য পেয়েছেন কৃষকেরা। জমি চাষ না করেই গমের ভালো ফলন পেয়ে কৃষকেরা বেশ খুশি। নামমাত্র খরচে গমের আবাদ করে তাঁরা লাভবান হচ্ছেন।

এ পদ্ধতিতে গম আবাদ করলে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের কয়েকটি জেলায় শীতকালে কমপক্ষে ১ লাখ হেক্টর জমিতে ৩ লাখ টন গম উৎপাদন সম্ভব; যার বাজারমূল্য ১ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা–এমনটাই মনে করছে কৃষি বিভাগ। গত শনিবার দুপুরে তালতলীর নলবুনিয়া গ্রামে উৎপাদিত গম কাটার উদ্বোধন করা হয়। এ সময় কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তাঁরা উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ত জমিতে গম চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। কৃষকেরা জানান, বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী হওয়ায় এখানকার আবাদি জমিতে লবণাক্ততার পরিমাণ খুব বেশি। এ কারণে তাঁরা বছর শুধু আমন ধান আবাদ করতে পারেন।

ডিসেম্বরে আমন ধান কাটার পর শুষ্ক মৌসুমে জমিতে লবণাক্ততার পরিমাণ এতটাই বেড়ে যায় যে, এসব জমিতে আর কোনো ফসল ফলানো যায় না। বর্ষা এলেই আবার আমন ধান চাষাবাদ করেন তাঁরা। ফলে এখানকার কৃষিজমি বছরের প্রায় আট মাসই পতিত থাকে।

এ ধরনের পতিত জমি আবাদের আওতায় আনতে অস্ট্রেলিয়ার এসিআইএআর (অস্ট্রেলিয়া সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ) প্রকল্পের সহায়তায় বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগ গবেষণা শুরু হয়। ২০১৭ সাল থেকে এই গবেষণা করে আসছে তারা।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের (কেজিএফ) অর্থায়নে ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া, সিএসআইআরও, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় যৌথ প্রকল্পের আওতায় এই গবেষণা করছে।

গবেষণার অধীনে তালতলী উপজেলার নলবুনিয়া গ্রামে ২০ জন কৃষক গম চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। এসব কৃষকের প্রত্যেকে এক বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে আমন ধান ওঠার আগেই জমি কিছুটা ভেজা থাকা অবস্থায় গমবীজ ছিটিয়ে দেন।এতে জমিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধির আগেই গমগাছ বেড়ে ওঠে। ফলে দু-একবার সেচ দিলেই ৯০ থেকে ১০০ দিনের মধ্যে গম ঘরে তোলা যায়।

গমচাষি ইউসুফ হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের জমিতে বছরে একবার মাত্র আমন ধান আবাদ করতে পারতাম। শুষ্ক মৌসুমে জমিতে মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে আর কোনো ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। তবে গম আবাদের প্রকল্পের লোকজন আমাদের বিনা চাষে গম উৎপাদনের পদ্ধতি হাত-কলমে শিখিয়ে দিলে এ বছর এক বিঘা জমিতে গম আবাদ করি।

এক বিঘা জমিতে যে ফলন হয়েছে, তাতে ৮-১০ মণ গম পাব বলে আশা করছি। নামমাত্র খরচে পতিত জমিতে গম উৎপাদন করতে পেরে আমি খুশি।’ নলবুনিয়া গ্রামে গম কর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম সরোয়ার টুকু।

বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জোদায়দুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কৃষক ইদ্রিস হাওলাদার, তালতলী উপজেলা চেয়ারম্যান রেজবি-উল-কবির জোমাদ্দার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুজ্জামান তনু।

এ বিষয়ে ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি প্রজেক্ট লিডার ড. মৃন্ময় গুহ নিয়োগী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় এলাকায় জমির লবণাক্ততা দিন দিন বাড়ছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে ১ লাখ হেক্টরের বেশি জমি পতিত থাকছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ