1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. ukbanglatv21@gmail.com : Kawsar Ahmed : Kawsar Ahmed
বন্দরের ৯ ওয়ার্ডে পদায়নকৃত বিতর্কিতদের ফিরিস্তি! - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১১:৪৩ অপরাহ্ন

বন্দরের ৯ ওয়ার্ডে পদায়নকৃত বিতর্কিতদের ফিরিস্তি!

  • প্রকাশিত :প্রকাশিত : রবিবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৪
  • ২৪ 0 বার সংবাদি দেখেছে

বন্দর প্রতিনিধি // নারায়ণগঞ্জ মহানগরের আওতাধীন বন্দর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডে আওয়ামীলীগের
কমিটি ঘোষণাকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা থেকে শুরু করে
বিদ্রোহ,উদ্বেগ-উৎকন্ঠা এখনো বিরাজমান রয়েছে। পদপ্রাপ্তদের লোকবল না থাকায়
কমিটি ঘোষণার পর হতে অদ্যাবধি দৃশ্যমান কোন কর্মসূচী পরিলক্ষিত হয়নি। দলের
বিরাট একটি অংশ ত্যাগী নেতা-কর্মীদের পাশে থাকায় নতুন পদপ্রাপ্তদের দায়িত্ব
পালণে চরমভাবে হিমসিম খেতে হচ্ছে। বিশেষ করে তাদের ঘরোয়া আয়োজনগুলোও
আলোর মুখ দেখছেনা। বন্দরের ৯টি ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের বর্তমান প্রেক্ষাপট
থেকে প্রতীয়মান হয় এটা যেন অনেকটা ল্যাংড়া ঘোড়া নিয়ে রেসের ময়দানে
লড়াই করার অবস্থা। তবে ল্যাংড়া ঘোড়া নিয়ে রেসের ময়দানে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তরা
কতটা সফল হবেন বা আদৌ হতে পারবেন কি না সে ব্যাপারে সন্দেহের যথেষ্ট
অবকাশ রয়েছে। একদিকে কর্মশূণ্য অন্যদিকে ব্যাকগ্রাউন্ড ও অতীত ইতিহাস
বিতর্কিত হওয়ায় নতুন পদপ্রাপ্তরা রাজনৈতিক ময়দানে যেন অপমৃত্যুর শামিল হয়ে
পড়ছে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে,সদ্য ঘোষিত ওয়ার্ড কমিটিগুলোতে দু’একজন
ছাড়া অধিকাংশ পদ-পদবীধারীই বিতর্কিত। বিশেষ করে ১৯নং ওয়ার্ডের সভাপতি
জসিমউদ্দিন জসু,সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাহাবুদ্দিন,২০নং ওয়ার্ডে সাধারণ
সম্পাদক আসাদুজ্জামান খোকন,২১নং ওয়ার্ডের সভাপতি সালাহউদ্দিন,সাধারণ
সম্পাদক মনিরুজ্জামান খোকন,২২নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক গোলাম
সারোয়ার সবুজ,২৩নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান সুজু,২৪নং
ওয়ার্ডের সভাপতি বুলবুল আহমেদ,২৫নং ওয়ার্ডের সভাপতি ইউসূফ,২৬নং
ওয়ার্ডের সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন তাকে নিয়ে বিতর্ক না থাকলেও ২৭নং
ওয়ার্ডের সভাপতি এ্যাডভোকেট মামুন ও সাধারণ সম্পাদক ইসলামকে
বিতর্কিত হিসেবে শনাক্ত করেছে মূলধারার নেতা-কর্মীরা। এর মধ্যে ১৯নং
ওয়ার্ডের সভাপতি জসিমউদ্দিন জসুকে দিয়েই শুরু করা যায়,তার পিতা ইসহাক
মিয়া ছিলেন ঘোর স্বাধীনতা বিরোধী। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ইসহাক
সোনাকান্দা ইউনিয়ন শান্তি কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। তাকে
নিয়ে দেশবরেণ্য লেখক মুনতাসির মামুনও তার মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক একটি বইয়ে
ইসহাক মিয়ার দেশদ্রোহিতার চিত্র তুলে ধরেন। রাজনৈতিক ক্যারিয়ার হিসেব করলে
দলের জন্য ব্যক্তি জসিমউদ্দিন জসুরও তেমন কোন ভূমিকা বিগত সময়ে লক্ষ্যনীয়
ছিলনা। একই ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাহাবুদ্দিনের ক্ষেত্রেও বলা যায়
কর্মীশূণ্য নেতা। ওয়ান ম্যান শো। দীর্ঘ দিন আওয়ামীলীগের নামটি মনের ভেতর
জিইয়ে রেখেছে হয়তো এমন চিন্তা-ধারায় আবগে বশীভূত হয়ে তাকে পদ দেয়া
হয়েছে কিন্তু দলকে এগিয়ে নেয়া কিংবা নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করার মতো
যোগ্যতা বা সামর্থ তার নেই। সর্বোপরি তার বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারীর

অভিযোগ রয়েছে। ২০নং ওয়ার্ডের সভাপতি সোহেল করিম রিপন সবার কাছে
গ্রহণযোগ্য তাকে নিয়ে কারো কোন দ্বি-মত নেই। সাধারণ সম্পাদক
আসাদুজ্জামান খোকন,যার রাজনীতির বয়স প্রায় সর্বোচ্চ ৫ বছর। খোকন
অনেকটা উড়ে এসে জুড়ে বসার মতো পদ পেয়ে গেলেন। মহানগর আওয়ামীলীগের
সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহার আর্শীবাদে তার দয়ায় পদপ্রাপ্ত হন তিনি।
আসাদুজ্জামান খোকনের বিরুদ্ধে ত্যাগী নেতা-কর্মীদের অভিযোগ খোকন
কোনমতেই পদ পাওয়ার যোগ্য নয় সে একজন অনুপ্রবেশকারী। ৫ বছর আগেও
খোকন নৌ-যান শ্রমিকলীগের নামে নদীতে ব্যাপক চাঁদাবাজীতে সক্রিয় ছিল।
সে সময় তাকে ওই কমিটি থেকে বাদ দিয়ে দিলে পরবর্তীতে ঢাকা বিভাগীয়
শ্রমিকলীগের নাম ব্যবহার করে (তার শ্যালক সোহেলের মাধ্যমে) মদনগঞ্জ বাস স্ট্যান্ড
এলাকায় চলাচলরত ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন থেকে চাঁদা উত্তোলণ করেন যা
অদ্যাবধি অব্যাহত রয়েছে। ২১নং ওয়ার্ডের সভাপতি মোঃ সালাউদ্দিন। এক সময় বন্দর
ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালণ করলেও পরবর্তীতে সে দীর্ঘ
দিন প্রবাসে কাটায় দলের আন্দোলন সংগ্রামে তার কোন উপস্থিতি ছিলনা বললেই
চলে। এরপর আওয়ামীলীগ পূণরায় ক্ষমতা লাভের সুযোগে প্রবাস থেকে ফিরে এসে
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দখল করে সেখানে গাড়ির
গ্যারেজ তুলে ভাড়া নেয় নিজেও মুদী দোকান খুলে বসেন। একই ওয়ার্ডের সাধারণ
সম্পাদক মনিরুজ্জামান খোকন যিনি রাজনীতিতে এসেছেন মাত্র ৪বছরই হবে।
আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রাখাতো দূরের কথা ছাত্র রাজনতিতেও পা রাখার
সুযোগ হয়নি তার অথচ তাকে ২১নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব
দেয়াটা কতটা যুক্তিযুক্ত তা কেবল তার নেতা খোকন সাহাই ভাল বলতে পারবেন বলে
বিদ্রোহীদের অনেকেরই অভিমত। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী রেদখা যায়, মনিরুজ্জামান
খোকনের জন্ম এবং বেড়ে ওঠা কলাগাছিয়া ইউনিয়ন এলাকায়। তার পিতা এক
সময় বিএনপি’র সমর্থক হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিল। খোকনের শ্বশুর মোঃ
নাজিমউদ্দিন ১৫নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামী’র সেক্রেটারী জেনারেল। তার দুই
ভাই আল ইসলাম শেখ ও মামুন শেখ জামায়াতের রুকন সদস্য। খোকনের দুই ভাই
প্রতিনিয়তই তাদের ফেসবুক আইডি থেকে সরকার বিরোধী পোষ্টসহ
জামায়াতের পক্ষে বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা করে থাকেন। তাদের ফেসবুক আইডি
সার্চ করলেই এর সত্যতা পাওয়া যাবে। ২২নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক গোলাম
সারোয়ার সবুজ নিতান্তই অপরিপক্ক। সবুজ ঠিকমতো ছাত্র রাজনীতি করেছে কি
না তার সুনির্দিষ্ট কোন দালিলিক প্রমাণও নেই। বরং বন্দর থানা ছাত্রলীগের
সাংগঠনিক সম্পাদক খান মাসুদের একনিষ্ঠ কর্মী হওয়ার সুবাদে তার সুপারিশে
এ্যাডভোকেট খোকন সাহার অনুসারী হিসেবে তাকে ওই পদে আসীন করা হয়।
২৩নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান সুজু,যার নিজের কোন ভিত্তি
নেই। এক কথায় ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার। নিজেই নেতা নিজেই
কর্মী। নেতৃত্ব দেয়ার মতো ভিত তার নেই। তার পরিবারেই অভিযোগ রয়েছে সে
নেশার সঙ্গে জড়িত। কমিটি গঠনের কিছুদিন পার না হতেই সুজুর বিরুদ্ধে
মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত অভিযোগ
করেন তারই আপন বোন। মূলতঃ বোনের সম্পত্তি গ্রাস করার হীন চেষ্টায় তাকে
বাড়ি থেকে উচ্ছেদের জন্য প্রকাশ্যে লোহার পাইপ দিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন। ৩৪নং

ওয়ার্ডের সভাপতি বুলবুল আহমেদ,যার নিজের কোন অস্তিত্ব নেই। নারায়ণগঞ্জ
শহরের একটি ফ্যাক্টরীতে সামান্য একজন নাইট গার্ডের চাকুরী করে সংসার
চালান তিনি। যে ব্যক্তি সংসার চালাতে হিমসিম খান তার দ্বারা বৃহৎ একটি
রাজনৈতিক দলের সভাপতির দায়িত্ব ন্যাস্ত করার বিষয়টি হাস্যকর ব্যাপার মনে করছে
অনেকে। ২৫নং ওয়ার্ডের সভাপতি ইউসূফ যাকে দলীয় আন্দোলন সংগ্রামে
কখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি বলা চলে। ২৭নং ওয়ার্ডেতো পুরোপুরিই মনগড়া
কমিটি। সভাপতি পদে আসা এ্যাডভোকেট মামুন আদালত পাড়ায় তার অনেক
বিতর্ক রয়েছে। তার পিতা আলাউদ্দিন মিয়ার বিরুদ্ধে পাহার সমেত অভিযোগ।
এছাড়া সাধারণ সম্পাদক ইসলাম পলু,সে একজন অনুপ্রবেশকারী। তারও
রাজনৈতিক বয়স সর্বোচ্চ ৫ বছর। বেশ কিছুদিন সে সৈনিকলীগের পদ কিনে
নেন। খোকন সাহার সঙ্গে যোগসূত্র করে হঠাৎ করেই হয়ে গেলেন ২৭নং ওয়ার্ড
আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক। ইসলাম পলুর বিরুদ্ধে একাধিক হত্যাসহ অসংখ্য
মামলাও রয়েছে। তাছাড়া এ্যাড.সিরাজুল মজিদ মামুন ও ইসলাম পলু তারা উভয়েই
মামা-ভাগিনা এবং একই মহল্লার বাসিন্দা। একই কমিটিতে একই এলাকার একই
পরিবারের দুইজনকে আওয়ামীলীগের মতো একটি প্রতিষ্ঠিত দলের ভাইটাল পদ দেয়া
ইতিহাসে নজির নেই। অথর্ব-অযোগ্যদের সমন্বয়ে বন্দরের ৯টি ওয়ার্ড
আওয়ামীলীগের কমিটি আদৌ আলোর মুখ দেখতে পারবে কি না মহানগরের নীতি-
নির্ধারকদের কাছে প্রশ্ন পদবঞ্চিত ত্যাগী নেতা-কর্মীদের। এদিকে নির্ভরযোগ্য
একটি সূত্র জানায়,মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও
সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহার বিতর্কিত কমিটির বিপক্ষে পাল্টা কমিটি
গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে তারা কমিটির তালিকা প্রস্তুত করেছেন যে
কোন মুহুর্তে তা ঘোষণা করবেন বলে ওই একই সূত্রের দাবি।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ