1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. ukbanglatv21@gmail.com : Kawsar Ahmed : Kawsar Ahmed
রাসেলস ভাইপার: আতঙ্ক না ছড়ানোর আহ্বান - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন

রাসেলস ভাইপার: আতঙ্ক না ছড়ানোর আহ্বান

  • প্রকাশিত :প্রকাশিত : শুক্রবার, ২১ জুন, ২০২৪
  • ১৭ 0 বার সংবাদি দেখেছে
অনলাইন ডেস্ক // সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে রাসেলস ভাইপার আতঙ্ক। এটি একটি বিষধর সাপ। দীর্ঘদিন বাংলাদেশে দেখা না গেলেও নতুন করে বেশ কয়েকটি জেলায় এ সাপের আবির্ভাব ঘটেছে। চট্টগ্রামের ভেনম রিসার্চ সেন্টার জানিয়েছে, সম্প্রতি দেশের ২৭টি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে রাসেলস ভাইপার। সবচেয়ে বেশি ছড়াচ্ছে পদ্মা নদীর তীরবর্তী জেলাগুলোতে। সম্প্রতি ঢাকার কাছে দোহারের চরাঞ্চলেও এ সাপের উপস্থিতি দেখা গেছে।

ভেনম রিসার্চ সেন্টার তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারত, ভুটান, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, চীন ও মিয়ানমারেও এই ভয়ঙ্কর বিষধর সাপের উপস্থিতি রয়েছে। এ সাপ সাধারণত ঘাস, ঝোপ, বন, ম্যানগ্রোভ ও ফসলের খেতে বাস করে।

যেভাবে নামকরণ

ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতে কাজ করতে এসেছিলেন স্কটিস সার্জন প্যাট্রিক রাসেল। ১৭৯৬ সালে তিনি এই সাপ সম্পর্কে গবেষণা করেন। তার নাম অনুসারে এই সাপের নামকরণ করা হয় ‘রাসেলস ভাইপার’। তবে স্থানীয়ভাবে চন্দ্রবোড়া ও উলুবোড়া নামেও পরিচিতি এই সাপ। বাংলাদেশে প্রায় ১০০ বছর এ সাপের অস্তিত্বের কথা জানা যায়নি। ২০১৩ সালে প্রথম রাজশাহী মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকেরা রাসেলস ভাইপারের কামড় খাওয়া রোগী পান।

বাংলাদেশে এল কীভাবে

২০১৮ সালে বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির জার্নালে একটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। ওই গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় স্বল্প সংখ্যক রাসেল ভাইপার সবসময়ই ছিল। কিন্তু বংশবিস্তারের মতো পরিবেশ ও পর্যাপ্ত খাদ্য না থাকায় এই সাপের উপস্থিতি তেমন একটা বোঝা যায়নি।

প্রাণিগবেষকেরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে এই সাপের সংখ্যা বাড়ার অন্যতম প্রধান কারণ একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল ফলানো। আগে কৃষিজমিতে বছরে একবার বা দুইবার ফসল ফলানো হতো এবং বাকি সময় পানির অভাব থাকায় জমি পরিত্যক্ত পড়ে থাকত। ৯০–এর দশকে সেচ পদ্ধতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে কৃষকরা বছরে দুই থেকে তিনটি ফসল ফলানো শুরু করেন এবং জমি কম সময় পরিত্যক্ত থাকতে শুরু করে।

সারা বছর ক্ষেতে ফসল থাকায় জমিতে ইঁদুরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যা এই সাপের প্রধান খাদ্য। আর ইঁদুর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাপ পর্যাপ্ত খাদ্য পেতে শুরু করে এবং বংশবিস্তারের জন্য যথাযথ পরিবেশ পেতে থাকে।

বেশির ভাগ সাপ ডিম পাড়লেও রাসেল ভাইপার বাচ্চা দেয়। গর্ভধারণ শেষে স্ত্রী রাসেল ভাইপার সাধারণত ২০ থেকে ৪০টি বাচ্চা দেয়। তবে ৮০টি পর্যন্ত বাচ্চা দেওয়ার রেকর্ডও রয়েছে।

কোনো কোনো গবেষকের মতে, বর্ষাকালে নদীর পানি বাড়ার ফলে ভারতের নদ-নদী থেকে ভেসেও এই সাপ বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। এখন পর্যন্ত পদ্মা অববাহিকায় এই সাপ সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। যেসব জায়গায় এই সাপ পাওয়া গেছে তার অধিকাংশ জায়গাতেই কচুরিপানা রয়েছে, আবার কচুরিপানার মধ্যেও এই সাপ পাওয়া গেছে। কাজেই গবেষকদের ধারণা, কচুরিপানার ওপরে ভেসে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় এই সাপ বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছেছে।

কতটা ভয়ঙ্কর রাসেলস ভাইপার

বিবিসি এক প্রতিবেদনে বলেছে, বাংলাদেশে রাসেলস ভাইপারের দংশনের হার খুব বেশি না। তবে ভারতে প্রতি বছর যে পরিমাণ সর্প দংশনের ঘটনা ঘটে তার মধ্যে অন্তত ৪৩ শতাংশ এবং শ্রীলংকায় প্রতি বছর মোট সর্প দংশনের ঘটনার ৩০-৪০ শতাংশ রাসেলস ভাইপারের কারণে হয়ে থাকে।

এই সাপের বিষক্রিয়া মারাত্মক বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। রাসেলস ভাইাপারের দংশনের পরে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। ব্যথার পাশাপাশি আক্রান্ত জায়গা দ্রুত ফুলে যায়। চিকিৎসকেরা বলছেন, দ্রুত চিকিৎসা না করা হলে নিম্ন রক্তচাপ, কিডনি অকার্যকর হওয়াসহ বিভিন্ন ধরণের শারীরিক সমস্যা তৈরি হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর অন্তত ৫ লাখ ৮০ হাজার মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন এবং বছরে অন্তত ছয় হাজার মানুষ মারা যান।

রাসেলস ভাইপার সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, এই সাপ গোখরো-কেউটের চেয়েও বিষধর। সাপটির দংশনে রোগীরা চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও প্রতি তিনজনে একজন মারা যাওয়ার রেকর্ড রয়েছে।

বাংলাদেশে রাসেলস ভাইপারের অ্যান্টিভেনম আছে কি?

বিষের বিরুদ্ধে কার্যকর বা বিষ নিষ্ক্রিয় করার উপাদানকে ‘অ্যান্টিভেনম’ বলা হয়। এই অ্যান্টিভেনম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকায় এসেনশিয়াল ড্রাগ বা অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকাভুক্ত হলেও বাংলাদেশে তা উৎপাদন হয় না। ভারত থেকে আনা হয় বাংলাদেশে।

কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, স্থানীয় সাপ থেকে অ্যান্টিভেনম তৈরি হলে তা সবচেয়ে কার্যকর হয়। একেক দেশের সাপের প্রকৃতি একেক রকম হওয়ায় অন্য দেশের অ্যান্টিভেনম এই দেশে শতভাগ কার্যকর নাও হতে পারে।

রাসেলস ভাইপার কামড়ালে কী করবেন

রাসেলস ভাইপার দেখতে অনেকটা ছোট অজগরের মতো। এটি শুকনো পাতার নিচে ও ঝোপ–জঙ্গলে লুকিয়ে থাকতে পারে। এ জন্য ধানখেত বা ফসলি জমিতে কাজে নামার আগে কৃষকদের লম্বা বাঁশ দিয়ে জায়গাটি নাড়িয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা। এ ছাড়া গামবুট ও জিনসের ট্রাউজার পরে জমিতে নামারও পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

চিকিৎসকদের মতে, রাসেল ভাইপারের কামড়ে যদি দাঁত বসে যায়, তাহলে ক্ষতস্থানের ওই জায়গাটিসহ ওপর-নিচের খানিকটা জায়গা নিয়ে হালকা করে ব্যান্ডেজ দিয়ে পেঁচিয়ে দিতে হবে। নড়াচড়া করা যাবে না। রোগীকে সাহস দিতে হবে। হাঁটা-চলাচল একেবারেই বন্ধ করে দিতে হবে। যাতে রক্ত চলাচলটা একটু কম হয়। এভাবে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

এই সাপ নিয়ে আতঙ্ক না ছড়িয়ে করণীয় কী জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ ফিরোজ জামান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটা বিষধর সাপ। কিন্তু এই সাপ দৌড়ে তাড়া করে না, বাসায় এসে কামড়াবে না। এরা সাধারণত কৃষি জমিতে ইদুর, ব্যাঙ, কীট-পতঙ্গ অন্যান্য প্রাণী খেয়ে থাকে। ফলে গণমাধ্যমে আতঙ্ক না ছড়িয়ে সচেতনতামূলক প্রচার চালাতে হবে। প্রথমত, চেনানো দরকার সাপটা দেখতে কেমন। এটার সঙ্গে অজগর, স্যান্ডবোয়ারের মিল আছে। কিন্তু একটু খেয়াল করলেই গায়ের গোল গোল রিং এর ভিন্নতা চোখে পড়বে। রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়ার গায়ে চাকা গোল গোল চিহ্নগুলো আলাদা আলাদা। অজগরের চাকা গোল গোলগুলো নেটের মতো, একটার সঙ্গে আরেকটা লাগানো।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ