1. faysal.rakib2020@gmail.com : admin :
  2. ukbanglatv21@gmail.com : Kawsar Ahmed : Kawsar Ahmed
সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম, অদ্ভুদ ‘অস্ত্র’ নিয়ে সন্ত্রাসীদের মহড়া, অস্ত্রগুলো উদ্ধার দাবি এলাকাবাসী - বাংলার কন্ঠস্বর ।। Banglar Konthosor
রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন

সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম, অদ্ভুদ ‘অস্ত্র’ নিয়ে সন্ত্রাসীদের মহড়া, অস্ত্রগুলো উদ্ধার দাবি এলাকাবাসী

  • প্রকাশিত :প্রকাশিত : রবিবার, ২৩ জুন, ২০২৪
  • ১৫ 0 বার সংবাদি দেখেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:: শহরের উত্তর আমানতগঞ্জ এলাকায় প্রকাশ্যে সাংবাদিক তারিকুল ইসলাম এবং তাদের ভাইদের কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা পূর্বাপর এক অদ্ভুদ অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায় বিএনপি নেতা মিরাজ-সেলিম, সাকিন, সবুজদের সন্ত্রাসী বাহিনীকে। তিন ফুট লম্বা লোহার বাট, খুব ধারালো এই অস্ত্রগুলোর প্রকৃত নাম কেউ না বলতে পারলেও অনেকে দাবি করেছে এটি আধুনিক মডেলের ‘চাইনিজ কুড়াল’। প্রায় দুই হাত লম্বা এই অস্ত্রটি লোহার বাটের মাথায় আছে, স্টিলের তৈরি গোলাকারের দা, যা দিয়ে কাউকে যদি আঘাত করা হয়, তাহলে যে কোনো অঙ্গ বিচ্ছিন্নসহ প্রাণ যাওয়ার সম্ভবনা প্রবল। শনিবার সিকদারপাড়া মসজিদের সম্মুখে সাংবাদিক তারিকুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা করার মিরাজ, সেলিমদের বাহিনীর এমন অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার পরে উত্তর আমানতগঞ্জ এলাকার জনমনে ঘোর আতঙ্ক ভর করেছে। সুশীলমহলসহ এলাকাবাসী এই মারণাস্ত্র উদ্ধার এবং বহনকারীদের গ্রেপ্তারে জোরালো দাবি তুলেছে।

স্থানীয়রা বলছে, মিরাজসহ মাত্র দুটি বিএনপি নেতার পরিবার উত্তর আমানতগঞ্জকে অশান্ত করে তুলেছে, যারা গোটা জীবন পার করেছে এলাকায় ভূমিদস্যুতা, চুরি, ছিনতাই এবং পার্শ্ববর্তী তালতলী বন্দর থেকে চাপিলা, জাটকা ও রেণুপোনা পাচারের সাথে জড়িত। তাদের যন্ত্রণায় এলাকার সাধারণ মানুষ ওষ্ঠাগত হলেও মুখ খোলে না ইজ্জত হারানোর ভয়ে। তবে সাংবাদিক হাসিবুল ইসলামের ভাইদের মারধর এবং কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা ঘটনার পর শান্তিপ্রিয় এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ করতে শুরু করেছে।

এলাকাবাসী জানিয়েছে, সাংবাদিকের ভাইদের যারা কুপিয়েছে, তাদের হাতে দেশীয় তৈরি বেশকিছু অদ্ভুদ অস্ত্র দেখা গেছে, তাদের হাটাচলার চিত্র স্থানীয় বাসাবাড়ির সিসি ক্যামেরা ফুটেজে ধরা পড়েছে। এমন অস্ত্র নিয়ে জনসাধারণে যেমন ভীতি ধরিয়ে দিয়েছে, তেমনই চাঞ্চল্য বাড়িয়েছে। এখনই এই অস্ত্র উদ্ধার না হলে উত্তর আমানতগঞ্জে তা ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাণহানির আশঙ্কা থাকছে। বিশেষ করে এই ভীতি আরও বাড়িয়ে দেয় অতীত কিছু ভাবনায়, ২০০০ সালে উত্তর আমানতগঞ্জের সন্তান মাছুম সিকদারকে হাত কেটে হত্যার পরে লাশ পার্শ্ববর্তী শফি মিয়ার গ্যারেজের পেছনে ধানক্ষেতে ফেলে রাখা হয়। বিএনপি নেতা মিরাজ, সেলিম এবং সবুজ, নয়নরা ওই মামলায় অভিযুক্ত। কয়েক মাস পলাতক থাকার পরে বাদীর সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে তারা এলাকায় ফিরে এসে ফের ত্রাস শুরু করে।

অভিযোগ আছে, তারা বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকলেও যখন যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কোনো সেই দলের শীর্ষস্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের লোক বনে যায়। কখনও কখনও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিবেদ বাধিয়ে দিয়ে ফায়দা লুটতে দেখা গেছে। এতদিন এরা সাবেক সিটি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ’র সেকেন্ড ইন কমান্ড নিরব হোসেন টুটুলের ছত্রছায় থেকে এসব সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করলেও এখন গা বাচাঁতে বর্তমান সিটি মেয়র এবং পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দিকে ধাবিত হতে চাইছেন।

পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহিদ ফারুক শামীম ঘনিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সাদিক আব্দুল্লাহ বিসিসির চেয়ার হারানোর পরে নিরব হোসেন টুটুলের রাজনৈতিক শক্তি হ্রাস পায়। তখন পল্টি মেরে মিরাজ, সেলিম এবং সাকিন, সবুজ, নয়নেরা একাধিকবার বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে, প্রতিমন্ত্রীর সান্নিধ্য লাভের আশায়। কিন্তু তারা চিহ্নিত হয়ে গেছে, তাই নেতা পাত্তা দেননি, কর্মীরা তাদের মেনে নেয়নি, বিমুখ হয়ে ফিরে গেছে।

সর্বশেষ রাজনৈতিক শেল্টারদাতা না পেয়ে তারা নিরব হোসেন টুটুলের সাথে আছে এবং অতীতের ন্যায় উত্তর আমানতগঞ্জে ক্রমাগতভাবে রক্তাক্ত করে চলছে মারণস্ত্রে, যা নিয়ে শনিবার সাংবাদিকের ভাইদের ওপর হামলা করা হয়েছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, এমন কয়েকটি অদ্ভুত অস্ত্র নিয়ে বিএনপি নেতা মিরাজ, সেলিম এবং সুবজের ছেলে তামিল ও জহিরকে মহড়া দিতে দেখা যায়, যারা আলোকিত বরিশাল পত্রিকার সাংবাদিক তারিকুল ইসলামকে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি। শনিবার সকালের ওই ঘটনায় গভীর রাতে ‘নিউজ এডিটরস্ কাউন্সিল, বরিশাল’র সভাপতি হাসিবুল ইসলাম কোতয়ালি মডেল থানায় তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, সকালে সাংবাদিক এবং তার ভাইদের মারধরের পর হামলাকারীরা বিকেল পর্যন্ত এলোমেলাভাবে বাসা বাড়িতে লুকিয়ে থাকলেও গভীর রাতে এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে। মামলার খবর পেয়ে শহরের দক্ষিণপ্রান্ত অর্থাৎ শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত (দপদপিয়া) কাছে একটি বাসায় অবস্থান নিয়ে আছে। জানা গেছে, সেই বাসাটি মাছুম হত্যা মামলার আসামি সেলিমের বড় ভাই সিরাজের, যিনি পেশায় একজন মহুরি।

স্থানীয়দের দাবি, সাংবাদিক ও তার ভাইদের ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করাসহ ওই অদ্ভুদ আকৃতির অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। নতুবা এই মারণাস্ত্র দিয়ে আরও অপরাধ সংঘটিত করার সমূহ সম্ভবনা থাকছে।

অবশ্য স্থানীয় সুধীমহল টুটুলের এই গুন্ডা বাহিনীর ত্রাসের জন্য অনেকাংশে কাউনিয়া থানা পুলিশের ওসি মো. আসাদুজ্জামানকেই দোষারোপ করছেন। অভিযোগ পাওয়া গেছে, ওসি মাসোহারা নিয়ে উত্তর আমানতগঞ্জের এই গুটি কয়েক বিএনপি নেতাকর্মীকে মাথায় তুলে বসে আছেন, যা নিয়ে ওই থানার অনেক সদস্যই তিক্ত-বিরক্ত। উদ্ধাহরণস্বরুপ যদি বলা হয়, ঈদের আগে সাংবাদিক মাহাবুবকে মারধরের ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে যেমন ওই থানারই এসআই পদমর্যার এক কর্মকর্তা তাদের উদ্দেশ করে ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেই ফেলেন ‘খালি ওসি স্যারের রুমে আসো যাও! আর এলাকায় একের পর এক আকাম-কুকাম করে বেড়াও। ফলে আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে ওসি আসাদুজ্জামানের শক্তিতেই বলিয়ান বিএনপি নেতা মিরাজ, সেলিম, সাকিনেরা।

যদিও এই প্রমাণ এর পূর্বেও একাধিক পাওয়া যায়। সাদিক আব্দুল্লাহ মনে ানয়ন বঞ্চিত হওয়ার যখন তাদের ঘাট বাজার দখল হয়ে যাচ্ছিল, তখন ওসি আসাদুজ্জামানই ঢাল হয়ে মিরাজদের পক্ষে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কাউনিয়া থানা পুলিশ টহল গাড়ি নিয়ে তালতলী বন্দরে দাঁড়িয়ে ছিল, অন্যদিকে কালু-মিরাজ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা উত্তোলন করছিল। সাংবাদিক এবং ভাইদের মারধরের পর যা এখনও চলমান রেখেছে কালু।

এই গ্রুপ সন্ত্রাসী গ্রুপটি বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাগ্রণে দাবি এসেছে উত্তর আমানতগঞ্জ এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষে পক্ষ থেকে। এক্ষেত্রে তারা কাউনিয়া থানা পুলিশের ওপর ভরসা না রাখতে পেরে পুলিশ কমিশনার মো. জিহাদুল কবির এবং বরিশাল র‌্যাবপ্রধানের হস্তক্ষেসহ প্রতিমন্ত্রী-মেয়রের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অবশ্য ইতিমধ্যে পুলিশ কমিশনার সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে মাঠপুলিশকে নির্দেশনা দিয়ে দিয়েছেন। কোতয়ালি মডেল থানায় মামলা নথিভুক্তের পর পুলিশের কয়েকটি টিম তাদের গ্রেপ্তার করতে কাজ শুরু করেছে। কিন্তু এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আত্মগোপন করায় পুলিশের কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। ওসি মো. আরিচুল হক জানিয়েছেন, হামলাকারী সন্ত্রাসীদের ধরতে পুলিশ সর্বোচ্চ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, উত্তর আমানতগঞ্জের ওই সংঘাতের ঘটনায় সিসি ফুটেজ যুবকদের হাতে মারণঘাতী অস্ত্র দেখা গেছে, তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। এবং এসব অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করাসহ প্রদর্শনে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে গোয়েন্দা পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ করছে।

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Comments are closed.

‍এই ক্যাটাগরির ‍আরো সংবাদ